আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজের জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বামীর মৃত্যুর পর আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, জীবনের শেষ সময়ে ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর পাশে থাকতে পারেননি। তাই এখন আর বাসায় ফেরার তাড়া অনুভব করছেন না।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি তদন্তাধীন মামলায় দীপু মনিসহ সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ জন সাবেক মন্ত্রী-এমপিকে ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয়।
শুনানির একপর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলেও তিনি এখন আর জামিন চান না। একই সঙ্গে আবেদনটি প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
দীপু মনি বলেন, তিনি গত দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন এবং এর আগে আদালতে নিজের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু আজ কিছু বলার প্রয়োজন অনুভব করছেন।
নিজের স্বামীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ থাকা স্বামী চোখের ইশারায় কথা বলতেন। সরকারের দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি স্বামীকে আগলে রেখেছেন এবং তার যত্ন নিয়েছেন। কিন্তু গত দুই বছর কারাগারে থাকায় স্বামীকে বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
আবেগাপ্লুত দীপু মনি বলেন, তিনি তার ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর কাছে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বামীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার পাশে থাকার সুযোগ পাননি। তার ভাষায়, ভালোবাসার মানুষ যখন প্রয়োজনের সময়ে তাকে পাননি, তখন এখন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজনও যেন ফুরিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, তার সন্তানরা চান তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে নিজের আর বাসায় ফেরার কোনো তাড়া নেই।
দীপু মনির বক্তব্যের পর আদালতকক্ষে নীরব পরিবেশ তৈরি হয়। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার বলেন, আদালত তার বক্তব্যে মর্মাহত। তবে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে উভয় পক্ষের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দীপু মনির জামিন চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী। গত ১৮ আগস্ট তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
এদিন দীপু মনি জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের কথা বললেও ডিফেন্স আইনজীবীর সম্মতিতে আবেদনটি পেন্ডিং রাখে ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর।




